ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা

ডিজেল-জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১১:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১১:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন
ডিজেল-জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ফাইল ছবি
ডিজেলের রেকর্ড মূল্য, কৃষি উৎপাদনের খরচ ও সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবিরে। এরই মধ্যে ভার্জিনিয়ায় শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণে অনেক সুইং ভোটার পরিবর্তনের আভাস দিয়ে বিরোধী ডেমোক্রেট শিবিরকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়া নিয়ে যখন মার্কিন জনজীবনে নাভিশ্বাস, তখনও ট্রাম্পের দাবি, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে মার্কিনিদের আয়।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ডিজেলের দাম। দেশটির বাজারে এখন প্রতি গ্যালনে ডিজেল মিলছে ৬ দশমিক দুই নয় মার্কিন ডলারে। যা গত বছরের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে ডিজেলের রেকর্ড দাম বাড়ার পর থেকেই বিশ্লেষকদের শঙ্কা ছিলো, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক মার্কিন অর্থনীতিতে। যা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের জন্য।

এবার সত্যিতে পরিণত হলো বিশ্লেষকদের শঙ্কা। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফসল তোলার এ ভরা মৌসুমে ডিজেলের রেকর্ড দাম বৃদ্ধিতে বেকায়দায় কৃষকেরা। শুধু একটি কম্বাইন হারভেস্টারের জন্য দৈনিক ১,৫০০ ডলার গুনতে হচ্ছে কৃষকদের; যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবহন খরচও।

ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ ৪০ থেকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রান্তিক কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় ভুট্টার জন্য একর প্রতি ১১ ডলার ও সয়াবিনের জন্য একর প্রতি ৭ ডলার জ্বালানি খরচ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শস্য উৎপাদনের এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হিতে-বিপরীত হতে পারে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান শিবিরের জন্য। ইতোমধ্যে ভার্জিনিয়ায় শুরু হওয়া আগাম ভোটে অনেক মার্কিন নাগরিক সরাসরি ঘোষণা দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ডেমোক্রেটদের সমর্থন দিচ্ছেন।

ডেমোক্রেট দলের একজন সমর্থন বলেন, ‘আমি ডেমোক্রেটদেরই ভোট দিচ্ছি। আমি চাই প্রশাসনে পরিবর্তন আসুক। রিপাবলিকানরা যেভাবে দেশ চালাচ্ছে তাতে আমি বিরক্ত।’

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপই দুর্নীতিপূর্ণ। রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছে; সেগুলোর কোনটিই প্রমাণ করতে পারেনি।

তবে ইরান যুদ্ধের জেরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে যখন মার্কিন জনজীবনে নাভিশ্বাস, তখনও নিজের প্রশাসনের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি করেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে মার্কিনিদের আয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন অর্থনীতি ভালো অবস্থানে, আমাদের কর্মসংস্থানের হার এখনও সর্বোচ্চ। আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার এখনও সর্বনিম্ন। এমনকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনও মার্কিনিরা সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করছে।’

তবে নিজের প্রশাসনের পক্ষে যতই সাফাই করুক ট্রাম্প; ইরান যুদ্ধের জেরে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়া রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবেন কিনা তাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ